রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন। ভোটগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে আসনটির ১৮৫টি কেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই আসনের ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্রে মোট ১৮৫টি কেন্দ্রে একটানা ভোটগ্রহণ চলবে।’টিভি দেখুন
তিনি আরও বলেন, ‘বুধবার সকাল ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের হাতে নির্বাচনি সরঞ্জাম বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এসব সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্সসহ ভোটগ্রহণের প্রয়োজনীয় উপকরণ পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তায় সেগুলো ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।’
সরঞ্জাম পরিবহনের সময় প্রধান সড়কসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়। এ সময় পুলিশ, এসআরবি, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, ২৯ অক্টোবর নির্বাচন ঘিরে জেলায় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের প্রায় ৫ হাজার ৩শ জন কাজ করবেন সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য। এর মধ্যে ২ হাজার ২৭২ জন পুলিশ, ২১ প্লাটুন বিজিবি, ২ হাজার ৪০৫ জন আনসার, ইলেকশন ইনকোয়ারি কমিটির ৩ জন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৩ জন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ২৫ জন কাজ করবেন। এছাড়া মোবাইল স্ট্রাইকিং ফোর্স ৯০টি, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব পর্যবেক্ষক ২৫ জন, বিদেশি পর্যবেক্ষক ৪ জন এবং দেশি ও স্থানীয় ১৭৭ জন পর্যবেক্ষক নির্বাচনি মাঠ পর্যায়ে কাজ করবেন।
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোটোভাই মির্জা ফয়সল আমিন (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. দেলাওয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আবদুল আলীম নিজামী (বটগাছ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম (হাতপাখা) এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক (ডাব) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বাংলাদেশ সংবাদ
স্থানীয় বাসিন্দা রোমান ইসলাম বলেন, ‘আমরা অপেক্ষা করছি ২৯ অক্টোবরের জন্য, সেদিন সৎ যোগ্য ব্যক্তিকে আমিসহ আমার পরিবারের ২০ জন সদস্য ভোট দেবেন।’
অন্যদিকে শহরের বসিরপাড়া এলাকার ভোটার কাশেম আলী বলেন, ‘আমরা চাই এই আসনটি মাদকমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত হোক। সেই সঙ্গে উন্নয়নও চাই। এজন্য অবশ্য যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিবো।’
এদিকে বুধবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী ও তার সমর্থকরা ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। সেই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনেরও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তাদের একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও ব্যবস্থা নেয়নি। তাই সুষ্ঠু ভোট নিয়ে সংশয় রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠুভাবে ভোট হলে দাঁড়িপাল্লার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। ভোটে অনিয়ম হলে অবশ্যই আমরা দলীয়ভাবে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।’